জবানবন্দী

February 20, 2013

দিন বাড়ি যায় ঋণ বাড়ে,
বছর ঘুরে আসে, বিচারের মেয়াদ বাড়ে।
পরাজয়ের বোঝা কাঁধে নিয়ে বিজয়োল্লাসে রাজপথে ঢল নামে;
সন্ধের আলো আধারিতে, নেতা-নেত্রী’র জুয়ার টেবিলে গনতন্ত্রের বেচা কেনা শুরু হয়।

যে বিজয় আমাদের এনে দিয়েছে তারা –
সেটাতে আমাদের কোনো ত্যাগ নেই।
আমার-তোমার মা বোনেদের কোনো খেতাব নেই বীরাঙ্গনা নামে;
আমাদের প্রজন্ম অকারনে  শিহরিত হয় না মুক্তিযুদ্ধের ভয়ার্ত রাত্রিগুলোর কথা শুনে।

আমরা বেজন্মার বংশধর,
সত্য লুকোই নিজের কাছেই, অন্যের ভিক্ষা দেয়া বিজয়ে নিজেকে স্বাধীন মনে করে।
তৃপ্তির ঢেকুর তুলি অহেতুক, পরাধীনতার স্বাদ অস্বীকার করে;
টনক নড়ে যখন সুর্যের আলোয় ওরা চাইলেই মানুষের টুকরো করে রাজপথ রাঙায়।

এ বিজয় আমাদের কখনই ছিল না,
নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যারা প্রানের বাজি রেখেছিল,
সন্তানহারা মা আর বাবার কান্নায় যাদের আকাশ-মাটি চৌচির হয়েছিল,
তাদের ঘরে এখনো তেলের অভাবে এক বেলা চুলোয় ভাত চড়ে না।

মুক্তিযোদ্ধার পরিবারগুলো এখনো শুধু গাল ভরা খেতাবে শুকনো মুড়ি চিবোয়,
আর বছর বছর কোঠার নামে ফাইল এ টেবিল-সে টেবিল ঘোরে,
তাদের কানে স্মৃতিসৌধ মানে চিত্কার এর প্রতিধ্বনি,
কান্নাজড়ানো কন্ঠে যখন তোমাদের ভুলবো না বলি, তাদের বুক তখন শুকনো মরুভূমি।

আমরা প্রতারক ভন্ডের দল,
শুধু গলাবাজি আর টেবিলে চাপড় মেরে নিজের শক্তি প্রমান করি,
অন্যদিকে মানুষ কীট পতঙ্গের মত আগুনে পুরে কয়লা হয়,
মিডিয়ার কাটতি বাড়ে, শাসকের তৈলাক্ত কুকুরের দলের ধারালো দাঁতে পিষ্ট হয় কচি মাংস।

আমরা বিভ্রান্ত জাতির পাল,
শান্তি চাই না অশান্তি, অর্থ না অনর্থ?
আমাদের ঘর বাড়ে, বস্তি উচ্ছেদ হয়ে রাস্তায় বসত গড়ে;
ইংলিশ রোড, টান বাজারের মা-বোনেদের ভোট চুরি হয়।

আমাদের পরিচয় আর যাই হোক,
স্বীকার করে নেয়াই ভালো, বিজয়ের ভিক্ষা’র থালা হাতে নিয়ে এখনো পরাধীনতার শেকলে বন্দী আমরা ।
এ বন্দিত্ব আমাদের অপারগতার, আমাদের ভীরুতার;
নির্লিপ্ত ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে রক্তাক্ত রাজপথে আর কত তাকিয়ে থাকব আমরা?