সম্পর্ক মানেই বন্ধন। বন্ধন মানেই ভালোবাসা।

January 1, 2017

এই পৃথিবি থেকে মানুষের নেবার এবং দেবার মতো সত্যিকার অর্থে কেবল একটি অমূল্য রত্নই আছে, তা হলো ভালোবাসা। যাকে অনেকভাবে বিভিন্ন আঙ্গিকে আমরা সংজ্ঞাবোধ্য করে তুলতে চাই। কিন্তু আমার উপলব্ধি হচ্ছে একে কোন সংজ্ঞায় ফেলা যায় না। “সম্পর্ক মানেই বন্ধন। বন্ধন মানেই ভালোবাসা। যতক্ষন ভালোবাসা, যতটুকু সম্পর্ক ততটুকুই ভালোবাসা।” পিতামাতা আর সন্তানের মতো এত কাছের কোন সম্পর্ক আর কি আছে? রক্তের বাঁধনে গাঁথা সম্পর্ক বলে কথা। তারপরও দেখা যায় অনেক পরিবারে বড় হয়ে ছেলেমেয়রা বাবা-মা এর কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যায়। ভাই-বোনের সাথে যোজন যোজনের দুরুত্ত তৈরী হয়। কারন বিবিধ। তৃতীয় পক্ষ বা আরো কোন পক্ষ, পারিপার্শ্বিকতার পরিবর্তন বা নিজেদের একটা জগত তৈরি হয় সে কারনে কি না, আরও অন্য কারনে সে চ্যাপটারে আপাতত যাচ্ছি না।

রক্তের বাঁধন গুলো বিভিন্ন বয়সের রক্তের তাপমাত্রার সাথে ঊঠানামা করে ঠিকই কিন্তু বাঁধনছেঁড়া হয় না কখনই। এক সময় সবাই স্থির হয়। জীবনের সব এডভেঞ্চার, পাগলামো, অভিমান কিংবা রাগ আস্তে আস্তে সূর্যাস্তের মতো অবসরে যেতে থাকে। নিজের বাচ্চারাও বড় হতে থাকে, তাদের সাথেও দুরুত্ত বাড়তে থাকে। এভাবেই চলতে থাকে আমাদের নিরবধি জীবন। কিন্তু, থেকে যায় শুধুই ভালোবাসা মাখানো মধুর সৃতিময় সময়গুলো। যার জীবনে ভালবাসার মুহুর্ত যতবেশি সে তত সুখী ।

যারা আমার সাথে একমত নন  তাদের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। কারন এটা একটা চয়েজ। যার যার লাইফ তার নিজের মতো । কে জীবনটাকে কি দিয়ে ভরাবে সেটা সম্পুর্ন তার ব্যাপার। কিন্তু বেলা শেষে সবাইকে ফিরতে হয়। একটা শান্তিস্থলে হোক সে কুটির কিংবা প্রাসাদ কিন্তু ভালোবাসার ছোঁয়া আছে এমন কোন স্থানে।

আমরা আমাদের জীবনকে এম্বিশন, ক্যারিয়ার, সম্পত্তি আর অশেষ জৈবিক চাহিদা দিয়ে অনেক জটিল করে তুলি। একসময় ভালবাসাকেও তখন জটিল মনে হতে থাকে কারন সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে যায়। আউটকাম, আউটপুট, ইম্প্যাক্ট, যশ, খ্যাতি, পাওয়ার এসবের এক কঠিন গোলক ধাঁধার মধ্যে আমাদের জীবনটা আটকে গেছে। চাইলেও এসব থেকে মুক্তি নাই। কারন আমরা অনেকসময়  জীবনের চেয়েও জীবিকাকে প্রাধান্য বেশী দিয়ে ফেলি । অনেকটা দু’পা হাটলেই ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ন রাস্তা পারাপারের মতো। আমরা এভাবেই আমাদের নিজেদের ভালবাসতে ভুলে গিয়েছি। হ্যা, হয়ত বলবেন, নিজেকে আবার কে না ভালোবাসে? হ্যা সবাই নিজেকে ভালবাসে এবং নিজের জন্যই সব করে। কিন্তু আমি ভালোবাসার কথা বলছি, স্বার্থপরতার কথা না। স্বার্থপর ভালোবাসা জন্ম দেয় হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, অহংকার, ঘৃনা, রাগ, রেষারেষি যা বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে কখনো সবার কাছে অপছন্দনিয়, এড়িয়ে যাওয়া, বিরক্তিকর মানুষ কিংবা একাকীত্ব হয়ে।

“ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত মানুষ ক্ষুধার্ত গরীবের চেয়েও গরীব। ক্ষুধা মিটে যাবে কোনরকম খাবার পেটে গেলেই। কিন্তু ভালোবাসা যখন তখন চাইলেই পাওয়া যায় না। এ যে পয়সা দিয়ে পাওয়া যায় না, যেখানে সেখানে মিলবে কি করে?”

আমাদের কৃষ্টি-কালচার এর বুনিয়াদ ধরতে গেলে খুব বেশী পুরনো নয়। যে কোন দেশের সংস্কৃতি নির্ভর করে সে দেশের মানুষের আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, উৎসব-পার্বন এসবের উপর। আর মানুষগুলোর রুচিবোধ এমনকি মানবিক বিষয়গুলো কিন্তু তৈরি হয় পরিবার থেকেই। তাই পরিবারের গাঁথুনি যদি ভালোবাসাময় একটা বন্ধনে গাঁথা থাকে তবে পরিপাটি একটি সমাজ গড়ে ওঠে আর এভাবেই পুরো দেশটাও সুন্দর হয়ে ওঠে! ভালোবাসা শেখাতে হয় ভালোবাসা দিয়েই, অন্য কোন উপায়ে নয়। কোল থেকে মাটিতে একটু শক্ত হয়ে হাটা শিখলেই আমাদের বাচ্চাদের আমরা শেখানো শুরু করে দেই প্রতিযোগিতা। কিভাবে নাম কামাবে, ভালো রেজাল্ট করলে কি কি সে জীবনে পাবে আর কি পাবে না, কত বড় হলে তবে মানুষের মতো মানুষ হবে  তা অবচেতনেই টাকার দাড়পাল্লায় হিসেব কষে বলে দেই তার মতো হও। কিন্তু ভালোবাসা কি শেখাই? সুন্দরের গভীরতা সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে বুনে দিতে পারি কি ভালোবাসার বীজ? সেটাই আমাদের শেখাতে হবে। ভালোবাসার মূল মন্ত্রটা একবার রপ্ত করতে পারলেই বাকিটা পথ মানুষ একাই পাড়ি দিতে পারবে।

– নিলীম আহসান, ১ জানুয়ারি, ২০১৭