ডিজাইন কি? (পর্ব -০১)

April 11, 2015

ডিজাইন কি?
আমরা ডিজাইন শব্দটির সাথে ছোট বেলা থেকেই আস্টেপিস্টে জড়িত। আপাতদৃষ্টিতে ডিজাইন বলতে আমরা কারুকার্যময় কিছু বুঝলেও ডিজাইন এর অর্থ কিংবা এর ব্যাপকতা কিন্তু অনেক গভীর।
সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি আমাদের জীবনকে সফল্যমন্ডিত, সুসজ্জিত, সাচ্ছন্দ্যময় এবংআনন্দময় করে তোলার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন যে বিষয়টি ভূমিকা পালন করে আসছে সেটাহলো “ডিজাইন”। মানব সভ্যতার উত্তর উত্তর যে উন্নতিসাধন হয়ে আসছে সেটাও এই ডিজাইনেরফলাফল। এক কথায় ডিজাইন হচ্ছে সকল কিছুর মুলে এবং ডিজাইন হচ্ছে আমাদের জীবন পরিচালনার এক অন্যতম সমাধান।

আমাদের ২৪ ঘন্টার দৈনিক একটি জীবন চিত্রের দিকে যদি আলোকপাত করি তাহলে সহজে বুঝতেপারব ডিজাইন কতভাবে আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে এবং ডিজাইন জীবনকে কত সহজ করে দিয়েছে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে একটি সুন্দর পিঙ্ক ব্রাশে ব্রান্ড এর সুগন্ধি পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে নিতুর দিন শুরু হয়। এরপর ফুল প্রিন্টের একটি সাদা গোলাপি টাওয়ালে মুখ মুছে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে হাল্কা চিরুনি বুলিয়ে খাবার টেবিলে সবার সাথে যোগ দেয়। তার নির্দিষ্ট সাদা প্লেট এর চারিদিকে কারুকার্য করা ফুলেল বর্ডার আর টেডি বিয়ার কফির মগেই প্রতিদিন সে তার প্রাতরাশ সারে।

এরপর, তড়িঘড়ি করে ইউনিভার্সিটির জন্য সুন্দর পরিপাটি আইরন করা পোশাক, ম্যাচ করে ছোট কানের দুল, কাঁধে বড় ব্যাগ ঝুলিয়ে, নিচু হিলের জুতো পরে রওনা দেয়। নিতুর সারাদিনে এইসময়টি খুবই ঝামেলাপুর্ন। ইউনিভার্সিটির পথ অনেকটা দূর হওয়াতে তাকে বাসে কিংবা সি এনজি তে জেতে হয়। আজ সে ঠিক করল রিকশায় যাবে। বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতেইএকটা রিক্সা পেয়ে গেল। কড়া রোদ থেকে বাঁচার জন্য রিক্সার হুট তুলে বসল। রাস্তার সবকিছু খুটে খুটে দেখতে দেখতে যাওয়াটা নিতু বেশ উপভোগ করে। বড় বড় বিল বোর্ড, দোকানপাট,যানবাহন, ব্রিজ, রেইল লাইন, ফুটপাতের ধারে পসরা সাজিয়ে বসা নানা ধরনের মানুষের   আনাগোনাকিছুই এড়ায় না নিতুর চোখ। এরপর, রিক্সা ওয়ালা তাকে তার ইউনিভার্সিটির বিশাল গেট এর সামনে নামিয়ে চকচকে কাগজের দুটো নোট নিয়ে চলে যায়। নিতুর ক্লাস্ রুম তিন তলায়। লিফট থাক্লেও এই অল্প কটা সিড়ি সে অনায়াসেই হেটে উপরে উঠে যায়। সাদা থাই এর দরজা ঠেলে পরিপাটী ক্লাস রুমে ঢুকে প্রতিদিনের মতো সেকেন্ড বেঞ্চ এর কর্নারে বসে। ক্লাসরুমে এসি আছে,লিখার জন্য একটি বোর্ড আছে, টিচার এর জন্য একটি টেবিল চেয়ার আছে, স্টুডেন্টদের জন্য আছে সাচ্ছন্দ্যে লিখার জন্য হাতলওয়ালা চেয়ার।

ক্লাস শেষ করে নিতু বন্ধুবান্ধবদের সাথেল্যাবে কপিউটারে পাওয়ার পয়েন্ট এর প্রেজেন্টেশন টা নিয়ে কিছুক্ষন আলোচনা করে গুগোল ড্রাইভে শেয়ার করল যাতে সবাই এক্সেস করতে পারে। এরপর বিকেলের মধ্যে বাড়ি ফিরে লাঞ্চ সেরে হাতে রিমোট নিয়ে ৫৬ ইঞ্চি এল ই ডি টিভির সামনে সোফায় গা এলিয়ে দিল।

এখানে আমরা নিতুর সাথে একটা অত্যন্ত সাদামাটা একটি দৈনন্দিন জীবনের চিত্র এক্সপেরিয়েন্স করলাম। চিত্র বর্ননায় আসলে আমরা কি পেলাম? অনেকগুলো বস্তু। সেটা হতে পারে একটি ব্রাশ,হতে পারে একটি কফির মগ, হতে পারে একটি রিক্সা কিংবা বাস, হতে পারে রাস্তাঘাট, কিছুদোকানপাট, বিলবোর্ড, কিংবা একটি ক্লাসরুমে একটি বোর্ড, এসি, চেয়ার বা টেবিল, কম্পিউটার, টিভি ইত্যাদি। আমরা এই সবগুলো বস্তুকে বিভিন্ন শেপ এ দেখতে পাই। এই শেপগুলোর প্রত্যেক্টির আলাদা আলাদা ডিজাইন আছে। যে ডিজাইনগুলোর জন্য একটি ব্রাশ থেকে একটি মগ কিংবা একটি রিক্সা সম্পুর্ন আলাদা। আলাদা কেন? কারন তাদের প্রত্যেকের পারপাস আলাদা। আমরা বিভিন্ন বস্তুকে বিভিন্ন শেপ এর ফর্মে দেখি যেটার একটি ডিজাইন আছে। যে ডিজাইনের কারনে বস্তসমষ্টী গুলো আমাদের জীবনকে করে তুলেছে সহজ এবং সুন্দর। তাই এক কথায় আমরা বলতে পারি, ডিজাইন হচ্ছে আমাদের জীবনকে সহজ করে তোলার সমাধান।

চলবে…